শনিবার, ২ মে ২০২৬
 
vatirrani News

প্রচ্ছদ মুক্তমঞ্চ আওয়ামী লীগ সরকারের “গ্রাম হবে শহর” পরিকল্পনা

আওয়ামী লীগ সরকারের “গ্রাম হবে শহর” পরিকল্পনা

ড. মোহাম্মদ বদরুজ্জামান ভূঁইয়া (কাঞ্চন) | ১১:০১ অপরাহ্ন, ২৪ জানুয়ারী, ২০১৯

1548349292.jpg
ড. মোহাম্মদ বদরুজ্জামান ভূঁইয়া (কাঞ্চন)

ড. মোহাম্মদ বদরুজ্জামান ভূঁইয়া (কাঞ্চন): একাদশ জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তার ইশতেহার প্রণয়নে যে "আমার গ্রাম, আমার শহর" নামে একটি সংযুক্তি প্রদান করেছে তা আমাদের আর্থ সামাজিক উন্নয়ন ও সেই সাথে উন্নয়ন ধারাকে বেগবান রাখা পূর্বক টেকসই রূপ দিতে অনস্বীকার্য ভূমিকা পালন করবে।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২০০৮ সালের নির্বাচনী স্লোগান ছিল ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’, যেখানে তথ্য প্রযুক্তি খাতকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে এ প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছিল। যার ফলশ্রুতিতে সরকার সারা দেশে ২৮টি আইটি পার্ক, ন্যাশনাল হেল্প ডেস্ক ৯৯৯ চালুকরণসহ সারাদেশে সকল নাগরিকদের স্মার্ট আইডি কার্ড প্রদান, উদ্যোক্তাদের জন্যে স্পেস বরাদ্দ, ৬ হাজার কম্পিউটার ল্যাব প্রতিষ্ঠা, আউট সোর্সিংয়ের উপর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, ৩০ হাজারেরও অধিক স্কুলে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস রুমের ব্যবস্থা, শিক্ষকদের জন্যে শিক্ষক বাতায়ন, দেশের ১ হাজার ১০৪টি ইউনিয়নে প্রায় ৮ হাজার কিলোমিটার অপটিক্যাল ফাইবার স্থাপন, সরকারি সেবা গ্রাম অঞ্চলে পৌঁছে দেবার অভিপ্রায়ে দেশের ৪ হাজার ৫৫০টি ইউনিয়ন পরিষদে স্থাপন করা হয়েছে ‘ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার’ ও ইন্টারনেটের ব্যবহার বৃদ্ধি ছাড়াও আরো অনেক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

ইতোমধ্যেই আমাদের দেশ বিশ্বের বুকে স্বগৌরবে একটি উন্নয়নশীল রাষ্ট্র হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। তাই সামনের দিনগুলোতে একটি উন্নত দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেতে একমাত্র করণীয় হচ্ছে টেকসই উন্নয়নের লক্ষমাত্রা সমূহের অর্জন নিশ্চিত করা। আর তাই একটি দেশের উন্নয়ন টেকসই ও কার্যকর করার মাধ্যমে সেই দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব হয়। যদি গ্রাম ও শহরের উন্নয়নের মধ্যে বৈষম্য হয় তাহলে দেশের প্রকৃত উন্নয়ন অসম্ভব হয়ে পরে। তারই ধারাবাহিকতায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করতে আওয়ামী লীগ উন্নত বাংলাদেশ অঙ্গীকার বাস্তবায়নে "গ্রাম হবে শহর" নামে কর্মপন্থা হিসেবে অবহিত করেছিল। টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রাগুলো অর্জনের জন্যে খাদ্য নিরাপত্তা বিধান, মানসম্মত শিক্ষা, লিঙ্গ সমতা, সুপেয় পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা,দারিদ্র্য বিমোচন, ক্ষুধা মুক্তি, নবায়ন যোগ্য ও ব্যয়সাধ্য জ্বালানী, বৈষম্য হ্রাস, উন্নত অবকাঠামো, শান্তি ন্যায়বিচার ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান গঠনে গ্রাম ও শহরের সামগ্রিক বিবেচনা উন্নত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ভিত্তিস্বরূপ প্রতীয়মান।

বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ গ্রামে বাস করে থাকে। তাই দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন পরিকল্পনায় গ্রামকে ব্যাতিরেকে নাগরিক কর্মপরিকল্পনা ফলপ্রসূ হয় না। আওয়ামী লীগ সরকার তাদের উন্নয়ন সুবিধা বণ্টনে সমতা আনতেই গত দশ বছরে গ্রামকে অনেকটা স্বয়ংসম্পূর্ণ করে তোলার অভিপ্রায়ে যে কাজ করে চলছে সেই পরিকল্পনার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে ২০১৮ সালের নির্বাচনে ‘গ্রাম হবে শহর’ নামক কর্মসূচি। সাধারণত শহরে বসবাসকারী মানুষ যে ধরনের নাগরিক সুযোগ সুবিধা পেয়ে থাকে সেই সকল সুযোগ সুবিধা গ্রাম অঞ্চলে পৌঁছে দেওয়ার অভিপ্রায়ে এই কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন প্ৰান্তে ৪ হাজার ৫৫০টি ইউনিয়নে ডিজিটাল সেন্টার স্থাপনের মাধ্যমে গ্রামের জনগণকে ইন্টারনেট ভিত্তিক সব ধরনের সেবা গ্রহণ করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।

বর্তমানে বিদুৎ উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ২০ হাজার মেগাওয়াটের উপরে যার ফলে গ্রামের মানুষও নিরবিচ্ছিন্ন বৈদ্যুতিক সুবিধা পাচ্ছে। ধীরে ধীরে গ্রাম অঞ্চলে কলকারখানা স্থাপন হচ্ছে ফলে গ্রামীণ অর্থনীতি যেমন চাঙ্গা হচ্ছে তেমনি গ্রামের মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইন্টারনেটের সুবিধার কারণে গ্রামের স্কুল কলেজগুলোতে শিক্ষার্থীরা মানসম্মত শিক্ষা গ্রহণ করতে পারছে। মোবাইল ব্যাংকিং চালু হবার ফলে বিদেশ থেকে সহজেই রেমিটেন্স গ্রাম অঞ্চলে পৌঁছে যাচ্ছে, গ্রামের মানুষের কষ্ট অনেকটাই লাঘব হচ্ছে। গ্রামীণ মানুষের জীবনযাত্রা ও গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নের লক্ষ্যে আওয়ামী লীগ সরকার প্রতিটি ইউনিয়নে কমিউনিটি সেন্টারের মাধ্যমে স্বাস্থ্য সেবা প্রদান, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প, বিনামূল্যে বীজ প্রদান, অল্পসুদে কৃষিঋণ, কৃষি উন্নয়নে ভর্তুকি বাড়ানোসহ অন্যান্য উদ্যোগ বাস্তবায়নে কার্যকরি অবস্থান বজায় রেখে চলেছে।

২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের সাথে সাথে বিশ্বের ২৪তম অর্থনৈতিক দেশ হিসেবে আবির্ভুত হবে। এরই ফলশ্রুতিতে দেশের নগর কেন্দ্রিক উন্নয়নের সাথে সাথে গ্রামীণ জনপদে উন্নত চিকিৎসা, আধুনিক নাগরিক সুবিধা, সবার জন্য শিক্ষা, কর্মসংস্থানের সুযোগ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং সেই সাথে গ্রামীণ জীবনধারার মান বৃদ্ধি নিশ্চিত হবে। বিশ্বের অনেক দেশ তাদের সামগ্রিক উন্নয়নের ছোঁয়া সবার মাঝে পৌঁছে দিতে গ্রামকে ভিন্ন ভিন্ন পরিকল্পনার মাধ্যমে উন্ননধারায় সামিল করে চলছে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতির চীন দেশটির প্রায় ৯ লক্ষ গ্রামকে দেশের অর্থনৈতিক ধারায় সামিল রাখতে ভিন্ন ভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

বিশ্ব ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ নোবেল পুরস্কার বিজয়ী জোসেফ ই. স্টিগ্লিটজ চীনা সরকারের পাঁচ বছর মেয়াদী গ্রাম উন্নয়ন পরিকল্পনা অবিভূত করেছে। চীনা সরকারের নীতিমালা গ্রামীণ এলাকায় জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের ক্ষেত্রে অবদান রাখছে। তাই আওয়ামী লীগ সরকারের বাস্তবসম্মত ও সময়োপযোগী গ্রাম উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রামীণ জনসাধারণের কর্মসংস্থানের সুযোগ, উন্নত শিক্ষা সুবিধা, উন্নত জীবন যাপনের প্রজ্ঞা সর্বোপরি নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতকল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

লেখক : চেয়ারম্যান, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

Post Your Comment

সম্পাদক: গোলাম রসূল, উপদেষ্টা সম্পাদক: কুদ্দুস আফ্রাদ ও ইব্রাহিম খলিল খোকন, নির্বাহী সম্পাদক: এস. এম. ফরহাদ
বার্তাকক্ষ: 01911214995, E-mail: info@vatirrani.com
Developed by CHAHIDA.COM