উপজেলা পরিষদ নির্বাচন: অষ্টগ্রামবাসীর প্রত্যাশা
এস.এম.ফরহাদ | ১:৩৪ অপরাহ্ন, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

এস.এম.ফরহাদ
এস.এম.ফরহাদ: আগামী ৩১শে মার্চ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে অষ্টগ্রাম উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। সারাদেশের মত অষ্টগ্রামেও বইছে নির্বাচনের হাওয়া। বরং মহামান্যের এলাকা হওয়াতে এখানে নির্বাচনী হাওয়াটা আরো জোড়ালো। দুই হেভিওয়েট প্রার্থীসহ প্রায় আধাডজন প্রার্থী দলীয় মনোনয়ন পেতে মরিয়া। নিয়মিত যোগাযোগ চালাচ্ছে বঙ্গভবনে। কেননা সমগ্র দেশব্যাপী আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দলীয় হাইকমান্ড নির্ধারণ করলেও অষ্টগ্রাম -ইটনা-মিঠানইনের মনোনয়ন নিশ্চিত হয় মহামান্যের সবুজ সংকেতে। তাই দলীয় মনোনয়ন পেতে অনেকেই বঙ্গভবনে দৌড়ঝাঁপ চালিয়ে যাচ্ছেন।
দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠেয় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে একক প্রার্থী দেবে আওয়ামী লীগ। কিন্তু বিএনপিসহ বিভিন্ন দল বর্জনের ঘোষণা দেওয়ায় উপজেলা নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করাটা ক্ষমতাসীন দলের জন্য মূল চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে দলের কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে চাইলে বাধা নাও থাকতে পারে। অর্থাৎ দলের নেতাদের অংশগ্রহণের বিষয়টি অনানুষ্ঠানিকভাবে অনেকটা উন্মুক্তই রাখা হবে। পাশাপাশি বিএনপির নেতাদের মধ্যে কেউ আগ্রহী থাকলে তাঁরা যাতে স্বতন্ত্র হিসেবে অংশ নিতে পারে তা নিশ্চিত করা হবে।
এমতাবস্থায় অষ্টগ্রাম উপজেলার নির্বাচনে কি হতে যাচ্ছে তা নিয়ে জনমনে ব্যাপক আগ্রহ বিরাজ করছে। নির্বাচন কি দলীয় প্রতীকে হবে নাকি উন্মুক্ত?? তবে অষ্টগ্রামের সাধারণ জনগণের সিংহভাগই চায় নির্বাচন উন্মুক্ত রাখা হোক। কেননা দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হলে এখানে কোনো আকর্ষণ থাকবেনা এবং জনগণও যাচাই-বাছাই করে ভোট দেয়ার সুযোগ হারাবে। আর উন্মুক্ত নির্বাচন হলে একদিকে প্রার্থীগণ যেমন সিরিয়াস হবে অন্যদিকে সাধারণ জনগণ মূল্যায়িত হবে।
সেক্ষেত্রে অষ্টগ্রামের জনগণ কাকে তাদের পরবর্তী অভিভাবক হিসেবে বেছে নিবেন? জনগণ কি বর্তমান চেয়ারম্যানের উপরই আস্থা রাখবেন নাকি নতুন কাউকে পছন্দ করবেন?
বঙ্গবন্ধু তাঁর আত্মজীবনীতে লিখেছিলেন, ‘যেকোনো মহৎ কাজ করতে হলে ত্যাগ ও সাধনার প্রয়োজন। যারা ত্যাগ করতে প্রস্তুত নয়, তারা জীবনে কোনো ভালো কাজ করতে পারে নাই, এ বিশ্বাস আমার ছিল।’ রাজনীতিতে ‘মহৎ অর্জনের জন্য মহাত্যাগ চাই। সুতরাং ভোগ নয়, ত্যাগের মনোভাব নিয়েই সবাইকে কাজ করতে হবে।
বাংলাদেশে রাজনীতি দুই ধরণের। একটি ভোগের রাজনীতি আর অন্যটি হলো ত্যাগের রাজনীতি। ভোগের রাজনীতির উদ্দেশ্যই হচ্ছে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া, বাড়ি-গাড়ির মালিক হওয়া, পদ-পদবি নেয়া। আর ত্যাগের রাজনীতির অর্থ হলো-মানুষের জন্য কাজ করা, বিপদ আপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানো। নিজের ভোগের জন্য সে রাজনীতি নয়।’
আগামী উপজেলা নির্বাচনে এমন একজন ব্যক্তিকেই চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত করতে হবে যিনি চলমান উন্নয়নকে আরো বেগবান করবেন, যিনি ত্যাগ ও নীতির রাজনীতির মাধ্যমে উন্নত অষ্টগ্রাম গঠনের ধারণাকে এগিয়ে নিতে পারবেন, তাকে প্রাধান্য দিয়ে সুবিধাবাদী চক্রকে শনাক্ত করে নিষ্ক্রিয় করে ফেলতে হবে। দেখা যাক কি সিদ্ধান্ত আসে ভাটির জনগণের জন্য। সেই মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষা করছে অষ্টগ্রামবাসী।

