অষ্টগ্রামে বিদ্যুতের সমবন্টন নিশ্চিত করা হোক
গোলাম রসূল | ৭:৫০ অপরাহ্ন, ৩১ মে, ২০২৩

গোলাম রসূল: শুরু থেকেই অষ্টগ্রামের মানুষ বিদ্যুতের সমস্যায় ভোগছে। প্রথমদিকে যারা বিদ্যুতের গ্রাহক হয়েছিলেন তারা দিনের মধ্যে মাত্র কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ পেত এবং তারা সেটা স্বাভাবিকভাবেই নিত। কারণ বেশিরভাগ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধার বাইরে ছিল। আবার যারা গ্রাহক ছিল তারাও ৬০ এবং ১০০ ওয়াটের বাল্ব ও ফ্যান ছাড়া অন্য বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম খুব কম ব্যবহার করত। টেলিভিশন ছিল হাতে গোনা কয়েকটি ঘরে। ফলে সারাদিনে অল্প সময় বিদ্যুৎ পেলেও খুব একটা অসুবিধা হত না। তারপরেও আমরা চাতলপাড়ে বিদ্যুৎ আছে কিন্তু আমাদের নেই বলে আক্ষেপ করতাম। কিন্তু বর্তমানে প্রায় শতভাগ মানুষ বিদ্যুতের আওতাধীন। প্রায় সবার ঘরেই ফ্রিজসহ অন্যান্য বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম রয়েছে। সাথে রয়েছে মোবাইল ফোন। ফোনে চার্জ না থাকলে মানুষ নিজেকে বড় অসহায় ভাবে। মোট কথা বিদ্যুৎ ছাড়া এখন কয়েক ঘন্টা কাটানো খুবই মুশকিল। প্রায়ই ফেসবুকে দেখি ইটনা ও মিঠামইনে বিদ্যুৎ আছে কিন্তু অষ্টগ্রামে নেই। আবার অষ্টগ্রাম সদর ও কাস্তুলে আছে কিন্তু দেওঘর ও বাঙ্গালপাড়ায় নেই। স্পষ্টতই বোঝা যাচ্ছে এখানে ইচ্ছাকৃত বৈষম্য করা হচ্ছে। তবে গোটা উপজেলার তুলনায় দেওঘর ও বাঙ্গালপাড়া ইউনিয়ন বেশি বৈষম্যের শিকার। এই বৈষম্য দূর করতে হবে। জনপ্রতিনিধিদের এই দায়িত্ব নিতে হবে। হিসাব খুব সোজা। বিদ্যুৎ পেলে সবাই পাবে। না পেলে কেউ পাবে না। দেশের সংকট হলে আমাদেরও সংকট হবে। প্রশ্ন হচ্ছে দেশে যখন বিদ্যুতের জোয়ার বইছিল, ব্যবহারের চেয়ে উৎপাদন বেশি ছিল তখনও কি আমরা অষ্টগ্রামবাসী ২৪ ঘন্টা বিদ্যুৎ পেয়েছি? আমরা সেটা পাইনি। কিন্তু আমরা মেনে নিয়েছি, অভ্যস্থ হয়েছি লোডশেডিং এর সাথে। লোডশেডিং সারা বিশ্বের সকল দেশেই কম-বেশি হয়। কিন্তু বৈষম্য হয়না। আমরা বৈষ্যমের শিকার। আমি উপজেলা প্রশাসক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, উপজেলা চেয়ারম্যান ও মাননীয় এমপি রেজওয়ান আহাম্মদ তোফিক ভাইয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। আপনারা উদ্যোগী হলেই অষ্টগ্রামবাসী বিদ্যুতের সুষম ভাগ পাবে। লেখক: সাংবাদিক ও হাওর উন্নয়নকর্মী।


2 Comments