হাওরের ফসল রক্ষা বাধ নির্মাণের জন্য বরাদ্দকৃত টাকা যেন লুটপাট না হয়
কামরুল হাসান বাবু | ১০:৩৬ অপরাহ্ন, ৩০ নভেম্বর, ২০১৭

কামরুল হাসান বাবু
৯০ কোটি টাকা বরাদ্ধ পেয়েছে সুনামগঞ্জ জেলায় হাওরের ফসল রক্ষা বাধ নির্মাণ ও রক্ষনাবেক্ষনের জন্য । সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ পীর ফজলুর রহমান একটি টিভি অনুষ্ঠানে এই তথ্য দিয়ে বলেন , আল্লাহর ওয়াস্তে এবার টাকা চুরি করবেন না । কৃষকের উপর দয়া করুন , তাদের বাঁচতে দিন ।
উনার এই আকুতি কন্ট্রাক্টরদের প্রতি । মনে করতে চাই তিনি মন থেকেই এই আকুতি জানিয়েছেন । সুনামগঞ্জ সহ হাওরে মোট ৭ টি জেলা রয়েছে । ৭ টি জেলার মোট ৩২ টি উপজেলা ২২ টি সংসদীয় আসন হাওরের সাথে কম বেশী সম্পৃক্ত ।
সুনামগঞ্জের মত প্রতিটি জেলায় হাওরের ফসল রক্ষা বাধ নির্মান ও রক্ষনাবেক্ষনের জন্য টাকা বরাদ্ধ হয়ে থাকবে। গত বছর এই টাকা কিভাবে লুটপাট হয়েছে তার খবর সারা দেশ দেখেছে , খেসারত এখনো দিয়ে যাচ্ছে সারা দেশ ।
এবারো যেন একই ভাবে বরাদ্ধকৃত টাকা লুটপাট হতে না পারে সেদিকে সকলের সতর্ক দৃষ্টি রাখা দরকার হবে । তথ্য অধিকার আইনে প্রশাসনের কাছ থেকে তথ্য নেয়া যেতে পারে কোথায় কি কাজের জন্য কত টাকা বরাদ্ধ হয়েছে তা জানা থাকলে তদারকি করা সহজ হবে কোন কাজটির জন্য কে দায়িত্ব নিয়েছেন সেই তালিকা প্রশাসন প্রকাশ করুন ।
এতে সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে সাধারন জনতা কন্ট্রাক্টরদের কাজের প্রতি নজর রাখতে পারবেন । সাধারনের জন্য তথ্য নেয়ার বিষটি ততটা সহজ নয় । সংবাদ কর্মীরা এবিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখতে পারেন ।
গত বছর বিপর্যয়ের পর হাওরের জন্য সরকারের নীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে । বলা হয়েছে , প্রকৃত কৃষক ও হাওরের সাধারনের পরামর্শ নেয়া হবে এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে তাদের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করা হবে ।
আমরা আশা করি সরকার তার গৃহিত নীতির সঠিক বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নেবে । মাথায় রাখতে হবে , হাওরের উৎপাদিত ফসল ও মৎস সামগ্রিক অর্থনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রেখে যাচ্ছে । হাওরের ক্ষতি মানে হলো দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির ক্ষতি ।
লেখক: রোটারীয়ান ও সাধারণ সম্পাদক, হাওর অঞ্চলবাসী, ঢাকা।

