অষ্টগ্রামে ইজিবাইক দুর্ঘটনা বাড়ছে, নিয়ন্ত্রণ জরুরি
গোলাম রসূল | ১২:৫৬ অপরাহ্ন, ২ মার্চ, ২০১৮

প্রচলিত আছে প্রতিটি ভালো কাজের সাথে কিছুটা মন্দ জড়িয়ে থাকে। প্রত্যন্ত হাওর এলাকা কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে গত কয়েক বছরে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। নির্মিত হয়েছে অনেক পাকা সড়ক। সহজ হয়েছে যাতায়াত ব্যবস্থা। লাঘব হয়েছে মানুষের নিত্যদিনের কষ্ট। কমেছে ভোগান্তি। সেই সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা। বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা।
সর্বশেষ সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর শিকার উপজেলার বাঙ্গালপাড়া ইউনিয়নের আনোয়ারপুর গ্রামের আইয়ূব মিয়ার নাতনি ও রুবেল মিয়ার মেয়ে শ্রাবন্তী। বয়স পাঁচ বছরও পেরোয়নি। এর মধ্যেই তাকে এই সুন্দর পৃথিবীর মায়া ছেড়ে পরপারে চলে যেতে হল। অনেকদিন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত হেরে গিয়েছে কোমলমতি এ শিশুটি। সাথে হেরেছে তার পরিবার, স্বজন ও শুভাকাঙ্খীরা।
গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর কাস্তুল ইউনিয়নে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় কালাচাঁদ দাস নামের ৫৫ বছরের এক ব্যক্তির মৃত্যু ঘটেছে। এর আগে একই ইউনিয়নের সড়কে ইজিবাইক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে অষ্টগ্রাম রোটারী কলেজের এক ছাত্রী। দীর্ঘদিন হাসপাতালে চিকিৎসার পর সে মা-বাবার কোলে ফিরতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন সড়কে সবসময়ই ছোটখাট সড়ক দুর্ঘটনা লেগেই আছে।
এসব দুর্ঘটনার পেছনে প্রধানত দায়ী ইজিবাইক যা স্থানীয়ভাবে অটো নামে সর্বাধিক পরিচিত। অষ্টগ্রামের ইজিবাইক চালকদের নেই কোন ড্রাইভিং লাইসেন্স, প্রশিক্ষণ ও চালনার অভিজ্ঞতা। যে যার মত ইজিবাইক কিনে রাস্তায় নামিয়ে দিচ্ছে। ফলে বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা। অনেক সময় মোটরসাইকেল চালকদের বেপরোয়া চালনাও দুর্ঘটনার জন্য দায়ী।
আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে প্রতিনিয়ত এসব দুর্ঘটনা ঘটলেও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্ঘটনা রোধে তেমন কোন উদ্যোগই দৃশ্যমান নয়। অথচ স্থানীয় প্রশাসনের এ বিষয়ে সবার আগে পদক্ষেপ নেয়ার কথা।
ইজিবাইকের নিয়ন্ত্রণ, চালকদের প্রশিক্ষণ ও দুর্ঘটনাজনিত জবাদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে উপজেলা পরিষদ, উপজেলা প্রশাসন, থানা প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদসমূহ একযোগে কাজ করবে এমনটাই প্রত্যাশা।
লেখক: সাংবাদিক ও হাওর উন্নয়নকর্মী।

