অষ্টগ্রামে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপন সময়ের দাবি
গোলাম রসূল | ১২:২১ অপরাহ্ন, ১১ এপ্রিল, ২০১৮

প্রাকৃতিক কিংবা কৃত্তিম যেকোনভাবেই আগুন লাগলে তার ধর্ম অনুযায়ী সব কিছু পুড়ে ছাই করে দেয়। যেমন গত বৃহস্পতিবার ছাই করে দিয়েছে কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার পূর্ব অষ্টগ্রামের মাইজহাটি গ্রামের ১৪টি বসতঘর। ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে প্রায় অর্ধকোটি টাকার। আগুনে পুড়ে এত বড় ক্ষতি অষ্টগ্রামে এর আগে কখনো হয়নি।
এখন প্রশ্ন হল আগুন লাগতেই পারে। তাই বলে সেটি দ্রুত নিবানো যাবে না? খবরে প্রকাশ, মাইজহাটির এই অগ্নিকান্ড থামাতে যে সমস্ত ঘরে আগুন লাগেনি সেগুলির কয়েকটি ভাঙ্গা হয়েছিল আগুন যেন ব্যাপকহারে ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেজন্য। ফলে সেখানেও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি এলাকাবাসী সবাই মিলে সনাতন পদ্ধতিতে পানি ছিটিয়ে আগুন নেভাতে সক্ষম হয়েছে। এতে সময় লেগেছে অনেক বেশি। কিন্তু ততক্ষণে ১৪টি ঘর পুড়ে ছাই। যদি অষ্টগ্রামে আধুনিক প্রযুক্তিসমৃদ্ধ ফায়ার সার্ভিস স্টেশন থাকত তবে বিশাল পরিমাণ ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়া যেত।
অষ্টগ্রাম এখন আর দুর্গম হাওরাঞ্চল নয়। আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে সেখানে। গোটা উপজেলায় যাতায়াতের জন্য নতুন নতুন পাকা সড়ক নির্মিত হয়েছে। বর্তমানে অষ্টগ্রামের আটটি ইউনিয়নের পাঁচটিতেই গাড়ি চলাচল করছে। যদি এখানে ফায়ার স্টেশন স্থাপন করা হয় তবে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি অনায়াসে বিশাল জনগোষ্ঠীর এই ইউনিয়নগুলোতে আগুন লাগার ১০-১৫ মিনিটের মধ্যে পৌছাতে পারবে। তাই স্বাভাবিকভাবেই ফায়ার স্টেশন স্থাপনের বিষয়টি নিয়ে ভাবার সময় এসেছে।
মাইজহাটিতে আগুন লাগার একদিন পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে সেখানে ছুটে গিয়েছেন সাংসদ রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক ও উপজেলা চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম জেমস। রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছেন। ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে পরে ত্রাণ বিতরণ করেছে দেওঘর ইউনিয়নের ভাই ব্রাদার কো-অপারেশন (বিবিসি) গ্রুপ। এ সবই প্রশংসার দাবিদার।
কিন্তু এ ত্রাণ বিতরণ কিংবা সাহায্য স্থায়ী সমাধান নয়। দরকার এমন ব্যবস্থা যেন আগুনে পুড়ে এত বিশাল পরিমাণ ক্ষতি না হয়। আগুন লাগার সাথে সাথেই যেন সেটি নেভানো যায় সে ব্যবস্থা। আর সেটি হল একটি অত্যাধুনিক ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপন। অর্থাৎ অষ্টগ্রামে একটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপন করতে হবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে অনেকেই এ বিষয়ে দাবি তুলেছেন।
আমি মাননীয় সাংসদ রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক ও অষ্টগ্রাম উপজেলা চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম জেমস ভাইয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই, আপনারা অনতিবিলম্বে অষ্টগ্রামে ফায়ার সার্ভিস স্থাপনের উদ্যোগ নেন। আপনাদের দুইজনের প্রতি অষ্টগ্রামবাসীর বিশ্বাস ও আস্থা অনেক বেশি। আশা করি, আপনারা তাদের বিশ্বাস ও আস্থার প্রতিফলন ঘটাবেন।
লেখক: সাংবাদিক ও হাওর উন্নয়নকর্মী।

