শনিবার, ২ মে ২০২৬
 
vatirrani News

প্রচ্ছদ মুক্তমঞ্চ অষ্টগ্রামে ধর্ষণ, গণধর্ষণ, সমাজপতিগণ ও জনগণ

অষ্টগ্রামে ধর্ষণ, গণধর্ষণ, সমাজপতিগণ ও জনগণ

গোলাম রসূল | ১:৩৩ অপরাহ্ন, ২১ মে, ২০১৮

1526887991.jpg
গোলাম রসূল

আমাদের কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলায় ধর্ষণের খুব একটা খবর পাওয়া যেত না। অষ্টগ্রামের মানুষ ধর্মভীরু, পীর-আওলীয়াপ্রেমি ও সচেতন। অধিকন্তু, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা হওয়ায় অষ্টগ্রামে ধর্ষণের মত অপরাধ ঘটানোর তেমন একটা সুযোগও নেই। শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে পুরো জেলার মধ্যে এই উপজেলার রয়েছে বিশেষ সুনাম। কিন্তু সাম্প্রতিককালে অষ্টগ্রামের সে ক্লিন ইমেজে আঘাত হেনেছে তিনটি ধর্ষণের ঘটনা। যার মধ্যে একটি আবার গণধর্ষণ। 

ধর্ষণের প্রথম অভিযোগটি ওঠে অষ্টগ্রাম ঋষিপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঝবয়সী প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। একই স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে দুইবার জেলহাজতে ছিলেন তিনি। চাকরি থেকেও দেয়া হয় সাময়িক অব্যাহতি। সর্বশেষ তথ্যমতে, বর্তমানে উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে স্বমহিমায় এলাকায় অবস্থান করছেন তিনি। কিন্তু চাকরিতে যোগ দিতে পারছেন না।

দ্বিতীয় ঘটনাটি উপজেলার মসজিদজাম গ্রামে। এবারে শিক্ষক নয়, এলাকার এক বখাটে স্থানীয় এক কিশোরীকে ধর্ষণ করে। পুলিশ ধর্ষককে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়ে দেয়।

তৃতীয় ঘটনাটি মর্মান্তিক ও ভয়াবহ। উপজেলার আদমপুরে প্রেমে ব্যর্থ হয়ে এক যুবক ও তার বন্ধুরা কিশোরীকে গণধর্ষণ করে। এতে সমস্ত অষ্টগ্রামের মানুষ ক্ষোভে ফুঁেস ওঠে। থানায় মামলা হয়। ভৈরব র‌্যাবের একটি চৌকস দল হবিগঞ্জ থেকে ছয়জনকে গ্রেফতার করে।

বর্তমানে ছয়জনের পাচঁজন কারাবাস করছে। একজন নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে জামিন দিয়ে দেয়। খুব শীগ্রই মেডিক্যাল রিপোর্ট পেয়ে চার্জশীট জমা দিবেন বলে জানালেন অষ্টগ্রাম থানার ওসি কামরুল ইসলাম মোল্ল্যাহ।

উপর্যুক্ত তিনটি ধর্ষণের ঘটনায় অষ্টগ্রামের সর্বস্থরের জনগণ তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম। মূলত ফেসবুকে তাদের ব্যাপক প্রতিবাদই ধর্ষকদের গ্রেফতার ও বিচার নিশ্চিত করতে ভূমিকা রেখেছে।

কিন্তু দু:খজনক হলেও সত্যি ধর্ষকদের পক্ষে কেন জানি প্রভাবশালী মহল কাজ করে। প্রথম ও তৃতীয় ধর্ষণের বেলায় প্রভাবশালী মহল ধর্ষকদের বাঁচাতে কাজ করেছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। প্রথম ঘটনায় প্রভাবশালীদের চেষ্টা কিছুটা সফল হলেও শেষের ঘটনায় স্থানীয় সমাজপতি গণধর্ষকদের রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছেন।

প্রভাবশালী সমাজপতিদের কাছে আমার প্রশ্ন-ধর্ষকদের রক্ষা করার চেষ্টায় আপনাদের কি লাভ হয়েছে? উত্তর আমি দিচ্ছি-না লাভ হয়নি। বরং আপনারা গোটা এলাকায় নিন্দিত ও অজনপ্রিয় হয়েছেন। অষ্টগ্রামের তরুণ প্রজন্ম আপনাদের কাজ ভালভাবে নেয়নি, নিবেও না আশা করি।

সৃষ্টির নিয়মানুযায়ী প্রত্যেক প্রাণীর জৈবিক চাহিদা আছে। মানুষেরও আছে। অন্যান্য প্রাণীর সাথে মানুষের পাথর্ক্যও আছে। মানুষ চাইলেই পশুদের মত যার-তার সাথে যখন-তখন যৌনকাজে লিপ্ত হতে পারে না। মানুষের জৈবিক চাহিদা পূরণের জন্য পৃথিবীর সকল ধর্ম বিয়ের প্রথা চালু করেছে। আবার মানুষ চালু করেছে পতিতালয়। আমাদের দেশের বিভিন্ন স্থানে সরকার অনুমোদিত বেশ কয়েকটি পতিতালয় রয়েছে। বিবাহিত-অবিবাহিত পুরুষরা সেখানে যাচ্ছে জৈবিক চাহিদা মেটাতে। সেখানে গেলে কোন নারী ধর্ষণের অভিযোগও করে না। আবার পুলিশও ধর্ষক হিসেবে গ্রেফতার করে না। কারণ, এটা স্বীকৃত ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা। যদিও ধর্মীয়ভাবে সেটা অন্যায় ও পাপ।

তাই ধর্ষকদের উদ্দেশে বলছি-যদি আপনাদের কামবাসনা জেগে ওঠে তবে পতিতালয়ে যান। সামান্য টাকা খরচ করেই আপনারা জৈবিক চাহিদা মেটাতে পারবেন। কেউ আপনাদের কিচ্ছু বলবে না। আর সমাজপতিগণ, আপনারা ধর্ষকদের রক্ষা করার চেষ্টা না করে তাদেরকে পতিতালয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিতে পারেন। এতে করে পরোক্ষ ধর্ষণের দায় থেকে আপনারাও মুক্তি পাবেন। আর অষ্টগ্রামের শিশু-কিশোরীরা পাবে ধর্ষকরুপী মনুষ্য পশুদের হাত থেকে মুক্তি।

লেখক: সাংবাদিক ও হাওর উন্নয়নকর্মী।

1 Comments

sudden emrul.
৬:০০ পূর্বাহ্ন, ১ জানুয়ারী, ১৯৭০
এই ধর্সন কারিদের সাথে যারা জরিত তাদের সবার বিচার হতে হবে এবং খুব দ্রত সময়ের মধ্যে।আর এদের সাহায্য কারিদের ও বিচারের আওতায় আনতে হবে।

Post Your Comment

সম্পাদক: গোলাম রসূল, উপদেষ্টা সম্পাদক: কুদ্দুস আফ্রাদ ও ইব্রাহিম খলিল খোকন, নির্বাহী সম্পাদক: এস. এম. ফরহাদ
বার্তাকক্ষ: 01911214995, E-mail: info@vatirrani.com
Developed by CHAHIDA.COM