শনিবার, ২ মে ২০২৬
 
vatirrani News

প্রচ্ছদ মুক্তমঞ্চ ঈদ: আনন্দ এবং ইবাদত

ঈদ: আনন্দ এবং ইবাদত

এস. এম. ফরহাদ | ৩:৪৫ অপরাহ্ন, ১৩ জুন, ২০১৮

1528883116.jpg
এস. এম. ফরহাদ

ইসলাম ধর্মের যে সকল উৎসব মুসলমানদের অস্তিত্বের জানান দেয় ঈদ তার অন্যতম। মুসলমানদের জাতীয় চেতনার প্রধান হাতিয়ার হচ্ছে ঈদ। আরবী শব্দ 'ঈদ' অর্থ হচ্ছে ঘুরে ঘুরে আসা, প্রত্যাবর্তন করা। প্রচলিত অর্থে ঈদ মানে আনন্দ বা খুশি। যেহেতু এই আনন্দ ঘুরে ঘুরে আসে তাই এটিকে বলা হয় ঈদ। বছরে দু'বার ঈদ পালন করা হয়। সর্বাধিক মহিমান্বিত মাস পবিত্র রমযানুল মোবারকের সিয়াম সাধনার পর শাওয়াল মাসের এক তারিখে ইসলামী শরীয়তের প্রণেতা মুসলমানদের জন্য যে উৎসব নির্ধারণ করেছেন তাই হচ্ছে ঈদুল ফিতর। তাইতো জাতীয় কবি বলেছেন-“রমযানের ঐ রোযার শেষে এলো খুশির ঈদ” 

তাৎপর্যঃ ঈদুল ফিতরের তাৎপর্য অপরিসীম। মহানবী (সা:) বলেছেন-যখন ঈদুল ফিতরের দিন আসে, তখন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন রোযাদারদেরকে নিয়ে ফেরেস্তাদের নিকট গৌরব করে বলেন-হে ফেরেস্তাগণ, তোমরা বলোতো-যে শ্রমিক তার কাজ পুরোপুরি সম্পাদন করে তার প্রাপ্য কি হওয়া উচিৎ? ফেরেস্তাগণ তখন বলেন-হে মাবুদ, পুরোপুরি পারিশ্রমিকই তার প্রাপ্য। তখন আল্লাহ বলেন-হে ফেরেস্তারা, আমার বান্দা-বান্দীগণ তাদের উপর নির্দেশিত কাজ সঠিকভাবে আদায় করেছে, তাকবীরের সহিত ঈদের নামাজের জন্য বের হয়েছে, এমতাবস্থায় আমার মহিমা, গরিমা, উচ্চ মর্যাদা ও উচ্চাসনের শপথ, আমি অবশ্যই তাদের প্রার্থনায় সাড়া দেবো। তারপর নিজ বান্দাগণকে লক্ষ্য করে আল্লাহ পাক ঘোষণা দেন-তোমরা ফিরে যাও, আমি তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিলাম এবং তোমাদের সাধারণ পাপরাশিকে পুণ্যে পরিণত করে দিলাম। রাসুল (সা:) বলেন-তখন তারা নিষ্পাপ হয়ে বাড়িতে প্রত্যাবর্তন করে। 

রাসুল (সা:) আরো এরশাদ করেন-ঈদুল ফিতরের দিন ফেরেস্তাগণ রাস্তায় নেমে আসেন এবং চিৎকার করে বলতে থাকেন-হে মুসলমানগণ! তোমরা আল্লাহ দিকে দ্রæত ধাবিত হও, তিনি তোমাদের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ইবাদত কবুল করে অসংখ্য পুণ্য দান করবেন। তোমরা আল্লাহর আদেশে সিয়াম পালন করেছো, রাত জেগে ইবাদত করেছো, যাও তাঁর নিকট থেকে প্রতিদান গ্রহণ করো। হাদিসে কুদসীতে আল্লাহ বলেন-রোযা আমার জন্য আর এর প্রতিদান আমি দেবো। ঈদের দিনে আল্লাহর এই ঘোষণা তার জ্বলন্ত প্রমাণ। আবু উমামা (রা:) থেকে বর্ণিত-যে ব্যক্তি ঈদের রাত্রে ঈমানের সাথে সাওয়াবের নিয়তে জাগ্রত থেকে ইবাদত করে, তার অন্তর কিয়ামতের বিভীষিকা হতে মুক্ত থাকবে। এতেই ঈদুল ফিতরের মহত্ব ,গুরুত্ব ও তাৎপর্য অনুধাবন করা যায়। সেই সাথে এটাও পরিস্কার যে-ঈদ শুধু আনন্দ নয়, ইবাদতও বটে।

করণীয়: ঈদ আমাদের জন্য মহান প্রভুর একটি বিশেষ নিয়ামত। ঈদে কেবল আনন্দ উল্লাস করলেই হবেনা। বরং এই দিনের কিছু করণীয় আছে যেগুলোর মাধ্যমে আমরা আল্লাহর নিয়ামত পেতে পারি। যথা-

১. ঈদের দিন ফজরের নামাজ জামাতে আদায় করা।

২. ঈদের দিন সকালে গোসল করা ও নতুন/পরিস্কার কাপড় পরিধান করা।

৩. সদকাতুল ফিতর আদায় করা (যাদের উপর ওয়াজিব)

৪. ঈদুল ফিতরের জামাতে অংশ নেয়ার আগে কিছু খাবার গ্রহণ করা সুন্নত।

৫. আল্লাহু আকবার..... ওয়ালিল্লাহিল হামদ্ এই তাকবীর বলতে বলতে ঈদের জামাতে যাওয়া।

৬. ঈদের নামাজ আদায় করা (অবশ্যই কর্তব্য) এবং খুৎবা শ্রবণ করা।

৭. এক রাস্তা দিয়ে ঈদগাহে যাওয়া এবং অন্য রাস্তা দিয়ে ফিরে আসা।

৮. গরীব অসহায় ব্যক্তিদেরকে সাহায্য সহযোগিতা করা যেনো তারাও ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারে।

৯. ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করা। সেক্ষেত্রে ঈদ মোবারক না বলে, উত্তম পদ্ধতি হচ্ছে-তাক্বাব্বাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকা' বলা।

১০. মোসাফা মোয়ানাকা করা, আত্বীয়স্বজন ও প্রতিবেশীর খোঁজখবর নেওয়া, মনোমালিন্য দূর করে সবাই মিলে আনন্দ প্রকাশ করা।

তবে লক্ষ রাখতে হবে, ঈদের আনন্দ উল্লাস যেনো শরীয়তের পরিপন্থী না হয়। ইসলাম সমর্থন করেনা এমন কোনো কাজ করা যাবেনা। যেমন-বিজাতিদের আচরণ, নারী পুরুষের অবাদ মেলামেশা, গান-বাজনা, আতশবাজি করা, অশ্লীল নাটক সিনেমা দেখা, জোয়া খেলা, মদ পান করা, অপচয় অপব্যয় করা ইত্যাদি।

ঈদ একটি ইবাদত। আনন্দ ফুর্তির মাধ্যমেও যে আল্লাহর ইবাদত করা যায় ঈদ হচ্ছে তার প্রমাণ। অতএব, আসুন আমরা যেনো ঈদকে যথাযথ নিয়মে পালন করে মহান প্রভুর সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারি সে ব্যাপারে সচেতন হই। আল্লাহপাক আমাদের সবার ঈদকে কবুল করুন। আমীন।

লেখক: সমাজকর্মী।                                     

Post Your Comment

সম্পাদক: গোলাম রসূল, উপদেষ্টা সম্পাদক: কুদ্দুস আফ্রাদ ও ইব্রাহিম খলিল খোকন, নির্বাহী সম্পাদক: এস. এম. ফরহাদ
বার্তাকক্ষ: 01911214995, E-mail: info@vatirrani.com
Developed by CHAHIDA.COM