শনিবার, ২ মে ২০২৬
 
vatirrani News

প্রচ্ছদ মুক্তমঞ্চ রাষ্ট্রপতির অষ্টগ্রামের সংবর্ধণায় জলমহাল ইজারার বিষয়টি তোলা হোক

রাষ্ট্রপতির অষ্টগ্রামের সংবর্ধণায় জলমহাল ইজারার বিষয়টি তোলা হোক

গোলাম রসূল | ১২:৫২ অপরাহ্ন, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

1537599125.jpg
গোলাম রসূল

গোলাম রসূল: আগামি সোমবার (২৪ সেপ্টেম্বর) মহামান্য রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ মহোদয় আমাদের অষ্টগ্রামে আগমন করবেন। দ্বিতীয় মেয়াদে রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পরে এটা তাঁর প্রথম অষ্টগ্রাম সফর। তাই এ উপলক্ষ্যে অষ্টগ্রামে উনাকে স্বাগতম জানিয়ে একটি গণসংবর্ধণা দেয়ার আয়োজন করা হয়েছে। আমি ঐ অনুষ্ঠানের সফলতা কামনা করি। সাথে সেখানে হাওর এলাকার জলমহালগুলোর ইজারা বন্ধের প্রসঙ্গটি মহামান্য রাষ্ট্রপতির নিকট তুলে ধরার জন্য স্থানীয় প্রশাসন, উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী নেতৃবৃন্দের নিকট আহবান জানাই। জলমহালগুলোর ইজারা বন্ধের বিষয়টি কেন আপনারা তুলে ধরবেন তার স্বপক্ষে আমি মোটাদাগে কয়েকটি যুক্তি উপস্থাপন করলাম।

এক: গত ১৫ সেপ্টেম্বর দেশের প্রভাবশালী দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় ‘সরকারি কর্মকর্তাদের পকেটে জলমহাল ইজারার টাকা’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এতে বলা হয় কিশোরগঞ্জের ১৮টি জলমহাল ইজারার নামে তৎকালীন জেলা প্রশাসক সিদ্দিকুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) নূরে আলম সিদ্দিকী, তৎকালীন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) দেলোয়ার হোসেন, সহকারী রাজস্ব কমিশনার ফজলুল হক, শামীম আল ইমরান ও মাহবুব জামিল গংরা দেড় কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। ভূমি সচিব আব্দুল জলিল দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। অভিযুক্ত অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নূরে আলম সিদ্দিকীও স্বীকার করেছেন বছরের পর বছর ধরে এসব অনিয়ম হয়ে আসছে। তার মানে কি দাড়ালো? জলমহাল ইজারার অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা হচ্ছে না। ইজারার সব টাকা খাচ্ছে রাষ্ট্রের মেধাবী কর্মকর্তা নামধারী কিছু উচ্চপদস্থ চোরের দল। আর তাই যদি হয় তবে হাওরের জলমহালগুলো কেন ইজারা দিবেন?

দুই: যখনই হাওরের জলমহালগুলোর ইজারা বাতিলের দাবি তোলা হয় তখনই স্থানীয় প্রশাসন, রাজনীতিবীদ ও নীতিনির্ধারকগণ বলেন ইজারা না দিলে সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হবে। বাজেটে ঘাটতি থাকবে। ফলে দেশ পরিচালনায় সমস্যা হবে। আপনারা একদম সঠিক বলেন। তবে সেটা সাদাচোখে। আপনাদের জ্ঞাতার্থে আমি একটি তথ্য দিই। কিশোরগঞ্জের হাওরগুলো ইজারা দিয়ে যে পরিমাণ রাজস্ব আয় হয় তার কয়েকগুণ বেশি অর্থ খরচ করতে হয় নদী খনন কাজে। অর্থাৎ খাজনার চেয়ে বাজনা বেশি। আর নদী খনন করতে হচ্ছে ইজারাদারদের দ্বারা নদীর প্রবাহপথ রোধ করার জন্যই। জলমহালগুলো ইজারা না দিলে হাওরের নদীগুলোর নাব্যতা ঠিক থাকত। আর নাব্যতা ঠিক থাকলে খনন করার প্রয়োজন পড়ত না। আশা করি হিসেবটি খুব সহজেই বুঝতে পেরেছেন।

তিন: অত্যন্ত দু:খজনক হাওরে মাছ ধরার অপরুপ দৃশ্য এখন আর দেখা যায়না। হাওরে জেলের সংখ্যা কমে গেছে। কমে গেছে ভাটি এলাকার বাজারগুলোতে মাছের পরিমাণ। হাওরের যে মানুষগুলো খাল, বিল আর নদীর তাজা মাছ খেয়ে প্রকৃতির সাথে সংগ্রাম করে দশকের পর দশক টিকে থেকেছে, সে মানুষগুলো এখন বিদেশী সিলভার কার্প আর পাঙাস মাছের কাছে অসহায়। হাওরের মাছ এখন হাওরের মানুষ খেতে পারে না। খায় টাকাওয়ালা শহুরে মানুষজন। ইজারাদাররা নদীতে মাছের ঘের দিয়ে মাছ ধরে সব মাছ শহরে আর বিদেশে রপ্তানি করছে।

সুতরাং, আমি আশা করি আমাদের সকল প্রতিনিধিগণ অষ্টগ্রামের সংবর্ধণায় জলমহাল ইজারা বন্ধের বিষয়টি রাষ্ট্রপতির সামনে তুলে ধরবেন এবং মহামান্য রাষ্ট্রপতি উনাদের দাবি মেনে নিয়ে হাওরের জলমহালগুলো বন্ধের ঘোষণা দিবেন।

লেখক: সাংবাদিক ও হাওর উন্নয়নকর্মী।

Post Your Comment

সম্পাদক: গোলাম রসূল, উপদেষ্টা সম্পাদক: কুদ্দুস আফ্রাদ ও ইব্রাহিম খলিল খোকন, নির্বাহী সম্পাদক: এস. এম. ফরহাদ
বার্তাকক্ষ: 01911214995, E-mail: info@vatirrani.com
Developed by CHAHIDA.COM