মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
 
vatirrani News

প্রচ্ছদ হাওরের রাজনীতি মনোনয়ন নিয়ে অষ্টগ্রাম আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা যা ভাবছেন

মনোনয়ন নিয়ে অষ্টগ্রাম আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা যা ভাবছেন

উপজেলা নির্বাচনের প্রস্তুতি

গোলাম রসূল | ২:৫২ অপরাহ্ন, ২৪ জানুয়ারী, ২০১৯

1548319930.jpg

গোলাম রসূল: সারাদেশে উপজেলা নির্বাচনের তুমুল প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে উপজেলা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। আর মার্চের প্রথম সপ্তাহে শুরু হবে পাঁচ ধাপে ভোটগ্রহণ। দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিতব্য এ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার বিষয়ে বিএনপি এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি। পক্ষান্তরে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে শুরু হয়েছে ব্যাপক দৌড়ঝাঁপ। কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা এবার দলীয় প্রতীক পাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে মাঠে নেমেছেন। শক্তিশালী কোন বিরোধী পক্ষ না থাকায় চেয়ারম্যান পদে এ উপজেলায় যিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাবেন, ধরে নেয়া হচ্ছে তিনিই হবেন উপজেলার আগামী কর্ণধার। আর সে কারণেই তাদের সবাই এখন স্থানীয় সাংসদ রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক ও বঙ্গভবনমুখী। সবাই চেষ্টা করছেন সাংসদের পরই সবচেয়ে ক্ষমতাসম্পন্ন এ পদটির অধিকারী হতে। প্রচার-প্রচারণা ও লবিং, সবমিলিয়ে অষ্টগ্রামে বইছে উপজেলা নির্বাচনের উত্তাল হাওয়া। 

এ বিষয়ে ভাটির রানি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাথে কথা বলেছে। তারা প্রত্যেকে তাদের মনোনয়নের স্বপক্ষে যুক্তি ও ব্যাখ্যা দিয়েছেন। চেয়ারম্যান পদে এ পর্যন্ত যে কজন প্রার্থী সামনে এসেছেন তাদের সবার বক্তব্য হুবহু তুলে ধরা হল। 

শহীদুল ইসলাম জেমস: আমি উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে অত্যন্ত সততা ও স্বচ্ছতার সাথে কাজ করেছি এবং করে যাচ্ছি। দল ও দেশকে ভালবাসি। দলের জন্য অনেক ত্যাগ, তিতীক্ষা স্বীকার করেছি। একজন শিক্ষানুরাগী হিসেবে আমি রোটারী ডিগ্রী কলেজ, অষ্টগ্রাম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে অবৈতনিক শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলাম। দলের বর্তমান উপজেলা সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আমি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। অষ্টগ্রামে দলীয় অফিসটা আমি করে দিয়েছি সম্পূর্ণ আমার নিজের টাকায় (শুধুমাত্র বাঙ্গালপাড়ার আনোয়ার হোসেন সাহেব ২০ হাজার টাকা দিয়েছিলেন অফিসের আসবাবপত্র কেনার জন্য)। দলীয় পদধারী ও উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে কেউ কোনদিন আমার বিরুদ্ধে কোন ধরণের অভিযোগ তুলতে পারেনি। আমি সম্পূর্ণ ক্লিন ইমেজের মানুষ। সে কারণে আমি মনে করি দলের সমর্থন আমিই পাব।

অধ্যক্ষ মোজতাবা আরিফ খাঁন: আমি শৈশবকাল থেকে মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। ছাত্রলীগ করেছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলাম। অষ্টগ্রামে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক জীবনে আমি সবসময়ই দলের জন্য নিজেকে উজাড় করে দিয়েছি। মানুষের বিপদে সবসময়ই তাদের পাশে থাকি। বিআরডিবির সভাপতি ছিলাম বেশ কয়েকবার। ব্যক্তিজীবনে আমি সৎ, নির্লোভ ও পরোপকারী। অষ্টগ্রামের জনগণ আমাকে ভালবাসে। তাদের অধিকাংশই আমাকে উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চায়। মাদক নির্মূল, দুর্নীতি প্রতিরোধ ও মহামান্যের উন্নয়নের ধারা বজায় রাখার জন্য জনগণ আমাকে তাদের পাশে চাইছে। বিগত নির্বাচনে আমি দলের মনোনয়ন চেয়েও পাইনি। কিন্তু দলের অনুগত থেকে নি:স্বার্থভাবে দলের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। নির্বাচনী মাঠ বাস্তবতার নিরিখে মনোনয়ন দেয়া হলে সেটি আমিই পাব।

এ এফ মাসুক নাজিম: ছাত্রলীগ ও যুবলীগের রাজনীতি করে বর্তমানে আওয়ামী লীগের উপজেলা সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দলের জন্য নিবেদিতভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আমি কখনোই দলের নীতি-আদর্শের বাইরে যাইনি এবং দলচ্যুত হয়নি। আওয়ামী লীগকে, দলের মানুষকে আমি প্রচন্ডভাবে ভালবাসি। দলের জন্য আমি মনপ্রাণ উজাড় করে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছি। আমি দীর্ঘ ৬ বছর অষ্টগ্রাম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ছিলাম। সেখানে আমি আমার নিজের টাকায় একটি ভবন তৈরি করে দিয়েছি, যার নাম মাসুক নাজিম ভবন। বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বর্তমান ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হিসেবে এখানেও আমার অর্থায়নে আরেকটা ভবন তৈরি করার পরিকল্পনা আছে। আমার অর্থায়নে বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের জন্য অষ্টগ্রামের ইতিহাসে এ যাবৎকালের সবচেয়ে বিলাসবহুল বনভোজন সম্পন্ন হয়েছে। বিএনপি সরকারের আমলে আমি অনেকগুলো মামলার আসামী ছিলাম। পুলিশের দ্বারা অনেক হয়রানির শিকার হয়েছি। মোদ্দাকথা, দলের জন্য আমি অনেক ত্যাগ, তিতীক্ষা স্বীকার করেছি। আর জনগণের মূল্যায়ন আমার কাছে অনেক বড়। অষ্টগ্রামের জনগণ আমার পাশে আছে। দলীয় মনোনয়ন দিলে বরাবরের মতই আমি নিজেকে উৎসর্গ করে দিব। আশা করি দলের সমর্থন পাব। 

মনিরুজ্জামান ভূঁইয়া লিটন: দলের স্লোগান গ্রাম হবে শহর এ লক্ষ্যে আমি কাজ করে যেতে চাই। এলাকার বেকার মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা আমার অঙ্গীকার। ২০০৯ সালের উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের যেকজন প্রার্থী ছিলেন আমি সবার চেয়ে বেশি ভোট পেয়েছিলাম। অর্থাৎ জনগণের কাছে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে আমার জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা অনেক বেশি। বিগত নির্বাচনে দলীয় হাইকমান্ড আমাকে এবারের নির্বাচনে মনোনয়নের আশ্বাস দিয়েছিলেন। দলের সে সিদ্ধান্তের প্রতি আমার পূর্ণ বিশ্বাস ও আস্থা রয়েছে। আশা করি এলাকাবাসী ও জনগণের চাওয়াকেই দল মূল্যায়ন করবে আর আমি দলের টিকেট পাব। 

ফজলুল হক হায়দারী বাচ্চু: আমি ছাত্রাবস্থায় অষ্টগ্রামে আওয়ামী লীগের জন্ম দিয়েছি। অষ্টগ্রামে রাজনৈতিক দল বলতে তখন শুধমাত্র ন্যাপ ছিল। আমি এসে প্রথম আওয়ামী লীগ করেছি। দীর্ঘ ২৮ বছর আমি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন শেষে বর্তমানে সভাপতি হিসেবে দলের জন্য একনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাচ্ছি। এছাড়া আমি রাজশাহী নগর ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা হিসেবে অনেকদিন কাজ করেছি। এতদিন শুধু মানুষের নির্বাচন করেছি, এবার নিজের নির্বাচন করতে চাই। 

মোস্তাক আহমেদ কমল: আমি উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ছিলাম। জনগণ আমাকে পুনরায় চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চায়। আমিও আবার তাদের সেবা করার জন্য উন্মুখ হয়ে আছি। বিগত নির্বাচনে আমি দলীয় মনোনয়ন চাইলে দলের হাই কমান্ড আমাকে পরবর্তী নির্বাচনে মনোনয়ন দেয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। তাই এবার আমাকে মনোনয়ন দেয়া হবে এ বিষয়ে আমি আশাবাদী। 

এ্যাডভোকেট সৈয়দ শাহজাহান: আমি ছাত্রলীগ থেকে রাজনীতি শুরু করেছি। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ছিলাম। অষ্টগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের ২৪ বছর সিনিয়র সহ-সভাপতি ও বর্তমানে কিশোরগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সাত বছর সভাপতি ছিলাম। বর্তমানে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদকে সমর্থন করছি। আমি বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদ করেছি। ১৯৭৫ এর ৩ নভেম্বর জেল হত্যার পরে আমি ও শহীদুল ইসলাম জেমসসহ সাতজন বিশ্ব বাঙ্গালী যুব সংস্থা (বিবাযুস) থেকে দায়িত্ব পেয়েছিলাম নিহতদেরকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাহিত করতে মাইকিং করার জন্য। দলের জন্য আজীবন কাজ করে গেছি। আশা করি দল আমাকেই মনোনয়ন দিবে। 

রফিকুল ইসলাম ফারুক: জননেত্রী শেখ হাসিনা দলীয় মনোনয়নের ব্যাপারে তরুণ ও ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করার নির্দেশনা দিয়েছেন। আমি দলের জন্য অনেক ত্যাগ, তিতীক্ষা স্বীকার করেছি। বিএনপি আমলে এক ডজনেরও অধিক মামলার আসামী ছিলাম। বেশ কয়েকবার মৃত্যুমুখ থেকে ফিরে এসেছি। দীর্ঘ ৩৩ বছর ধরে রাজনীতি করেও আমি কিছুই পাইনি। দলকে শুধু দিয়েই গেছি। মহামান্যের ছায়াতলে আমি রাজনীতি করছি। নেত্রীর নির্দেশ পালন করা হলে আমি অবশ্যই মনোনয়ন পাব আশা রাখি।

7 Comments

Sheikhsohel
৬:০০ পূর্বাহ্ন, ১ জানুয়ারী, ১৯৭০
আশা করি এবার দল মনিরুজ্জামান ভূইয়া লিটনকে মনোনয়ন দেবে।
MD Ataullah
৬:০০ পূর্বাহ্ন, ১ জানুয়ারী, ১৯৭০
দলীয় মনোনয়ন তাকেই দেয়া উচিত সৎ ও দুর্দিনের কান্ডারী জেনি ... আমি আশা করব অস্টগ্রাম বাসী নতুন কিছু দেখবে
Ahead Faruki
৬:০০ পূর্বাহ্ন, ১ জানুয়ারী, ১৯৭০
সবার জন্যে শুভকামনা রইল।
Rajib Ahmed Sany
৬:০০ পূর্বাহ্ন, ১ জানুয়ারী, ১৯৭০
আশা করি এবার দল থেকে মনিরুজ্জামান ভূইয়া লিটনকে মনোনয়ন পাব‌ে
Mohammad Ashrafuzzaman Bhuiyan
৬:০০ পূর্বাহ্ন, ১ জানুয়ারী, ১৯৭০
Smb jubraz
৬:০০ পূর্বাহ্ন, ১ জানুয়ারী, ১৯৭০
হ্যা পরিবর্তন চাই আমরা যেহতু তরুন প্রতিনীদিও চায় তরুন ৷ নেত্রীও নিজেও তরুন চায় এটা তারুণ্যের দেশ
আম bokul bhuiyan
৬:০০ পূর্বাহ্ন, ১ জানুয়ারী, ১৯৭০
আমরা আশাবাদী লিটন ভূইয়া দলীয় টিকেট পাবে

Post Your Comment

সম্পাদক: গোলাম রসূল, উপদেষ্টা সম্পাদক: কুদ্দুস আফ্রাদ ও ইব্রাহিম খলিল খোকন, নির্বাহী সম্পাদক: এস. এম. ফরহাদ
বার্তাকক্ষ: 01911214995, E-mail: info@vatirrani.com
Developed by CHAHIDA.COM